নারী ও শস্যক্ষেত্র

“””নারীর সাথে শস্যক্ষেত্রের তুলনা করে কি নারীকে অসম্মান করা হয়েছে?”””

সূরা বাকারা আয়াত নং২২৩।তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাত করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।

প্রকৃতপক্ষে কখন এবং কিভাবে নারীর সাথে মিলিত হবে এই ধরনের সংশয় দূর করা এবং নারীর গুরুত্ব বুঝানোর জন্যই উপরোক্ত আয়াত নাযিল হয়েছে।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ইসলামবিদ্বেষী/নাস্তিকদের ঘোর আপত্তি শস্যক্ষেত্র শব্দটি নিয়ে।নারীবাদী, ইসলামবিদ্বেষীদের অভিযোগ শস্যক্ষেত্রের সাথে নারীর তুলনা করে প্রকারান্তরে নারীকে অপমান করা হয়েছে।শস্যক্ষেত্র শব্দটি আল্লাহ রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন তা নাস্তিকরা বুঝেনা নাকি বুঝতে চায় না তাই আমার বোধগম্য হয় না।
শস্যক্ষেত্রঃপৃথীবির বুকে সবচেয়ে মূল্যবান এবং মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হইলো শস্যখেত যা পৃথীবির সব মানুষকেই একবাক্যে স্বীকার করতে হবে।আল্লাহ নারীর গুরুত্ব বুঝানোর জন্য পৃথীবির বুকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শস্যক্ষেত্রকেই রূপক হিসাবে ব্যবহার করেছেন।

একজন কৃষককে একখণ্ড জমিতে শস্য উৎপাদন করতে কি পরিমান শ্রম,নিষ্ঠা,যত্ন দিতে হয় তা কৃষক ছাড়া কেউ অনুধাবন করতে পারে না।হালচাষ করা,মই দেওয়া,বীজবপন করা,আগাছা পরিস্কার করা,প্রয়োজনে পানি দেয়া,ক্ষতিকারক পোকা,জন্তু থেকে রক্ষা করা ইত্যাদি ইত্যাদি কার্যসম্পাদনের পরেই আশানুরূপ ফসল উৎপাদন সম্ভব।ফসলী জমিকে একজন কৃষক তার সন্তানের মতোই আগলে রাখে।
নারী শস্যক্ষেত্রের ফলন কি?নারীর সন্তানই হলো নারী শস্যক্ষেত্রের ফলন এবং স্বামী হলো কৃষক।ভালো শস্যের জন্য যেমন একজন কৃষককে পরিশ্রম করতে হয় ঠিক তেমনি একজন স্বামীরও ভালো সংসার ও ভালো সন্তানের জন্য যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়।একজন নারীর শারীরিক ও মানসিক ভালোমন্দ ৯০%তার স্বামীর উপর নির্ভর করে।কোন স্বামী যদি তার স্ত্রীর সাথে সবসময় বাজে ব্যবহার করে তাহলে সে নারী কখনোই মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকতে পারে না।আর,গর্ভাবস্হায় একজন নারীর শারীরিক যত্ন ও মানসিক প্রফুল্লতা কতোটকু গুরুত্ববহন করে তা আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দিকে নজর দিলেই বুঝতে পারব।ইনশাল্লাহ। 👇
“”””ভ্রুণ অবস্থা থেকেই মানব শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ শুরু হয়।
তার বুদ্ধি, বুদ্ধিমত্তা এবং ব্যক্তিত্বের ভিত্তি নির্মিত হয় সেখানেই। ঠিক এ কারণেই আপনার শিশুর জীবনের এই পর্যায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভ্রুণের বিভিন্ন বিকাশ ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উৎস এবং খাদ্য উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ কারণে যে খাদ্য উপাদানগুলো ক্ষতিকর তা সচেতনার সঙ্গে এড়িয়ে চলতে হবে। সে সঙ্গে পুষ্টিকর ও উপকারী খাদ্যদ্রব্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই শিশুর ভবিষ্যৎ অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি বহুলাংশে এড়ানো সম্ভব।

এছাড়া শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য যে বিষয় বা উৎসগুলো ঝুঁকিপূর্ণ তা এড়িয়ে চলতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ উৎসগুলো হলো-

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ বা স্ট্রেস শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে বাধা সৃষ্টি করে। ঝুঁকি বাড়তে পারে বিভিন্ন মানসিক সমস্যার। গর্ভাবস্থার প্রথম মাস থেকেই যে মা গুরুতর মানসিক চাপে ভুগে থাকেন তার শরীরে এক ধরনের স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয় যা ভ্রূণের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। ফলস্বরূপ অজাত শিশুর (unborn child) ঝুঁকি বেড়ে যায়, সেই সঙ্গে শিশুর বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।

মায়ের মানসিক অবস্থা: ভ্রূণ যেহেতু সংবেদনশীল তাই মায়ের মানসিক অবস্থা দিয়ে তা খুব সহজেই প্রভাবিত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মায়ের মানসিক চাপ শিশুর জন্মগত মস্তিষ্ক ঠিকঠাক ভাবে গঠনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মায়ের মানসিক অবস্থা ভালো না থাকলে অজাত শিশুর মস্তিষ্ক ঠিকভাবে গঠিত হতে পারে না এবং ঝুঁকি বাড়াতে পারে শিশুর পরবর্তী জীবনে বিষন্নতাসহ বিভিন্ন মানসিক রোগের।””””তথ্যসূত্র মনের খবর.কম

একজন কৃষক যেমন তার ফসলীজমির প্রতি যত্ন ও ভালোবাসর মাধ্যমে উৎকৃষ্ট ফলন ঘরে তুলে।ঠিক তেমনি করে একজন স্বামীর তার স্ত্রীর প্রতি অগাধ প্রেম,ভালোবাসাই পারে ভবিষ্যৎ সুখময় একটি সংসার এবং উন্নত মনমানসিকতা সম্পন্ন, সৎ,নিষ্ঠবান সন্তানের প্রসব।

অতএব,নারীর মান,মর্যাদা ও গুরুত্ব বুঝানোর জন্য “”শষ্যক্ষেত্র “””শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করা সর্বশ্রেষ্ঠ আল্লাহর সর্বোৎকৃষ্ট নির্বাচন।

William Shakespeare and George Bernard Shaw

1। Who wrote the plays, ‘The Tempest’ and ‘The Mid Summer Night’s Dream’?
উত্তর দেখুন d. William Shakespeare

2। ‘Julius Caesar’ was the ruler of Rome about-

উত্তর দেখুন c. 2000 years ago

3। Shakespeare is known mostly for his-

উত্তর দেখুন d. plays

4। Frailty, the name is woman” – in which of the following novels you find this?

উত্তর দেখুন c. Hamlet

5। William Shakespeare is the author of —

উত্তর দেখুন d. King Lear

6। Who wrote ‘The Tempest’?

উত্তর দেখুন c. William Shakespeare

7। Which book is a Tragedy?

উত্তর দেখুন a. Hamlet

8। The ‘Merchant of Venice’ Written by Shakespeare is–

উত্তর দেখুন d. a drama

9। ‘Macbeth’ is a –

উত্তর দেখুন a. play

10। One of the following plays is not a tragedy-

উত্তর দেখুন d. Tempest

11। Shakespeare was born in the year–.

উত্তর দেখুন b. 1564

12। Who is the author of ‘Twelfth Night’?

উত্তর দেখুন a. William Shakespeare

13। Shakespeare is a famous —- Century English playwright.

উত্তর দেখুন b. sixteenth

14। ‘Shakespeare’ is known mostly for his –

উত্তর দেখুন d. plays
15। Which one of the following is not written by Shakespeare-

উত্তর দেখুন d. Dr. Faustus

16। who is the writer of “King Lear”

উত্তর দেখুন b. William Shakespeare
17। ‘The Merchant of Venice’ is written by –

উত্তর দেখুন c. Shakespeare

18। ‘Shakespeare’ was a –

উত্তর দেখুন d. Playwright
19। ‘Hamlet’ is –

উত্তর দেখুন a. a tragedy of Shakespeare
20। ‘Ophelia’ is an important character in the Shakespearean play–

উত্তর দেখুন c. Hamlet
21। ‘The Merchant of Venice’ is a drama by –

উত্তর দেখুন c. William Shakespeare
22। Shakespeare’s ‘King Lear’ is a –

উত্তর দেখুন c. Tragedy
23। Shakespeare wrote brilliant –

উত্তর দেখুন d. dramas
24। ‘Hamlet’ by Shakespeare is –

উত্তর দেখুন d. tragedy

25। In what year did Shakespeare die?

উত্তর দেখুন d .1616 AD
26। Shakespeare’s ‘Merchant of Venice’ is a –

উত্তর দেখুন b. Comedy
27। Author of ‘Hamlet’ –

উত্তর দেখুন d. William Shakespeare

28। ‘Caliban’ is a character in –

উত্তর দেখুন b. Tempest

29। Which of the following is a “Comedy” written by Shakespeare?

উত্তর দেখুন a. As you Like it
30। Shakespeare lived during the reign of –

উত্তর দেখুন a. Elizabeth I

31। Who is the author of “The Taming of the Shrew”?

উত্তর দেখুন b. Shakespeare

32। “To be or not to be” is the beginning of a famous soliloquy from –

উত্তর দেখুন c. Hamlet

33। The Merchant of Venice –

উত্তর দেখুন c. William Shakespeare
34। Who is the greatest modern English Dramatist?

উত্তর দেখুন b. George Bernard Shaw

35। “Caesar and Cleopatra” – is –

উত্তর দেখুন b. A play By G.B. Shaw

36। The drama ‘Man and Superman’ is written by –

উত্তর দেখুন d. G.B. Shaw

37। Who is the greatest modern English Dramatist?

উত্তর দেখুন b. G. B. Shaw

38। Who is the greatest modern English Dramatist?

উত্তর দেখুন b. George Bernard Shaw

39। George Bernard Shaw is –

উত্তর দেখুন a. a playwright

40। “Man and Superman” or “Arms and The Man” is written by –

উত্তর দেখুন a. G.B. Shaw

41। Which is known as Shakespeare’s swansong?

উত্তর দেখুন The Tempest

42। The poem ‘ Under the Green Wood Tree’ was written by?

উত্তর দেখুন c)William Shakespeare
43। Which of the following school of literary writing is connected with a medical theory?

উত্তর দেখুন d) Comedy of Humors

44। Shakespeare’s ‘Measure for Measure’ is a successful-

উত্তর দেখুন b) comedy

45। Othello is a Shakespeare’s play about-

উত্তর দেখুন d) A Moor

46। What is the full name of the tragedy ‘Dr. Faustus’?

উত্তর দেখুনa) The Tragical History of Doctor Faustus

47। Portia is the character of

উত্তর দেখুন a) Merchant of Venice
48। Who is the King Of The Play ‘Macbeth’

উত্তর দেখুন c) Duncan
49। Where was Shakespeare born

উত্তর দেখুন c) Stratford-upon Avon
50। Which period of British Literature does Shakespeare belong to

উত্তর দেখুন c) Elizabethan
51। Who is the captain in Duncan’s army?

উত্তর দেখুন c) Macbeth
52। Who is the son of Banquo

উত্তর দেখুন a) Fleance

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মাইকেল মধুসূদন দত্ত

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫শে জানুয়ারি যশোরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হিন্দু কায়স্থ বংশে জন্ম হলেও পরবর্তীতে তিনি খৃষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। জীবনের প্রথম অংশে পশ্চাত্য সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণের কারণে তিনি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা শুরু করেন। তবে পরবর্তীতে তিনি মাতৃভাষা বাংলায় লেখালেখিতে আকৃষ্ট হন। বাংলায় নাটক, প্রহসন ও কাব্য রচনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে স্থান করে নিয়েছেন। বাংলা কাব্য রচনায় তিনিই প্রথম সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন করেন। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্যকে বিবেচনা করা হয়। প্রথিতযশা এই কবি ১৮৭৩ সালের ২৯শে জুন মাত্র ৪৯ বছর বয়সে কোলকাতায় কপর্দকশূন্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

From a page “Ahmadullah”

ঢাকাসহ যেসব এলাকায় করোনার কারণে বাসা বাড়িতে অবস্থান করার নির্দেশনা রয়েছে তারা জুমায় না এসে বাসায় যোহর আদায় করুন। অন্যান্য সালাতের বেলায়ও একই কথা। বাসায় জামাত করে সালাত আদায় করুন। ইন শা আল্লাহ মসজিদে জামাতের সওয়াব পাবেন। যাদের জ্বর, শর্দি, কাশি ও হাঁচি আছে কিংবা শরীরে আগে থেকে নানা রোগ আছে অথবা বৃদ্ধ কিংবা শিুশু তারা কোনো অবস্থাতেই মসজিদে আসবেন না।
তবে মসজিদে আযান চালু ও সালাতের আনুষ্ঠানিকতা থাকবে। ইমাম মুয়াযযিন ও মসজিদ স্টাফসহ মসজিদের একান্ত কাছের লোকদের মধ্যে যারা নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন ও সুস্থ-তারা কেবল শরীক হবেন।
এখানে শুধু আপনার নিজের নিরাপত্তার প্রশ্ন থাকলে না হয় রিস্ক নিয়েও যেতে পারতেন। কিন্তু অন্যদের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত থাকায় এই কঠিন সময়ে আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে বিচার করুন।
মনে রাখবেন, কঠিন করার নামই তাকওয়া নয়। সমাজ ও অন্যদের নিরিপত্তার বিষয়ে খেয়াল করা তাকওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিক।
মানুষ বাঘ থেকে যেভাবে পলায়ন করে (!) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুষ্ঠ রোগীকে দেখে (সংক্রমণের ভয়ে) সেভাবে পলায়ন করতে বলেছেন। (তখন কুষ্ঠ রোগ সংক্রমিত হতো, কিংবা সংক্রমিত হওয়া বিশেষ ধরণের কুষ্ঠ রোগের কথা বলা হয়েছে হয়তো)।
যাহোক, কুষ্ঠ মরণব্যাধি নয়, করোনা মরণব্যাধি। কুষ্ঠ থেকে যদি এতোটা সাবধান থাকতে বলা হয়ে থাকে তাহলে করোনা থেকে কতো বেশি সাবধান ও সোশ্যাল ডিসটেন্সে থাকা ইসলাম সম্মত?

অনেকে বলেন, কুষ্ঠ রোগীর সাথে মেশার পর কারো কুষ্ঠ রোগ হলে লোকটি সেই কুষ্ঠ রোগী থেকে হয়েছে মনে করে তাকে দোষারোপ যেন না করে সেজন্য কুষ্ঠ রোগী থেকে পলায়নের কথা বলা হয়েছে হাদীসে।
বর্তমান পরিস্থিতিতেও মসজিদে যাওয়ার পর যদি কেউ করোনাক্রান্ত হন এবং সেক্ষেত্রে মসজিদের অজানা কোনো করোনা রোগী থেকে সংক্রমিত হওয়ার ধারণা হতে পারে, সে ধারণা থেকে বাঁচানোর জন্য একই যুক্তির ভিত্তিতে সাময়ীকভাবে মসজিদে না গিয়ে ঘরে সালাত আদায় করতে বলা উচিত। আল্লাহ না করুন যদি মালয়েশিয়ার ইসলামী সম্মেলন ও ইংল্যান্ডের মসজিদের মতো আমাদের দেশেও মসজিদ থেকে ব্যপকভাবে করোনা ছড়ায় তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম মসজিদের দিকে আসার পরিবর্তে মসজিদ থেকে দুরে সরে যাবে। নাস্তিকরাও চান্স নিবে।

অনেকে বলেন মসজিদে গেলে কোনো অজানা রোগীর সাথে মেশার পর আল্লাহর হুকুমে করোনা হতে পারে, এটা তো নিছক ধারণা। কেবল ধারণার ভিত্তিতে কিভাবে মসজিদে জামাতে যোগ না দেওয়ার কথা বলা যেতে পারে? তাদের বলবো- সাহাবীরা, এমনকি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অতিবৃষ্টি ও বেশি শীতের সময় যে বাসায় নামাজ পড়ে নিতে বলেছিলেন তখন বৃষ্টি ও শীত উপক্ষা করে মসজিদে আসলে কি ক্ষতির সম্মুখিন হওয়াটা নিশ্চিত ছিল? তারা কি ক্ষতির শংকা ও ধারণা থেকে বাসায় সালাত পড়তে বলেননি?
তাহলে আমরা কেন জোর গলায় বলতে পারছি না যে, এই পরিস্থিতে কমিউনিটি ডিসটেন্সই যেহেতু বাহ্যিক সমাধান সুতরাং অন্য গ্যাদারিং এর পাশাপাশি মসজিদের গ্যাদারিংও আপাতত অতি সীমিত রাখুন। সবাই বাসায় নামাজ পড়ুন।
আমি নিজে বাসায় নামাজ পড়ছি। আপনি কি করবেন সিদ্ধান্ত আপনার।

প্রশাসন ব্যবহার বদলান; বদলে যাবে দেশ

মোঃ শাহিনুর ইসলাম

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনের সবাই রাষ্ট্রের কর্মচারী মাত্র। ভুলে যাবেন না দেশের জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। ইতিহাস সাক্ষী নাগরিকের পিঠ দেয়ালে ঠেকলে বিপ্লব অনিবার্য। সেদিন কেউ রেহাই পাবেন না। তাছাড়াও এই জীবন কয়দিনের; একটু ভাবুন!

রাষ্ট্র কি এই রিক্সা চালক ভাইকে এই বন্ধ ঘোষণার অাগেই খাদ্য, অর্থ ও প্রয়োজনীয় ঔষধ পৌঁছে দিয়েছে? না কিছুই দেয়নি। তাহলে রাষ্ট্রের মালিক এ রিক্সা চালককে কানে ধরে উঠবস করা ও মারার অধিকার এই চাকরকে কে দিয়েছে? বুঝিয়ে ঘরে থাকতে বললে কি সমস্যা হতো? বুঝাতে না পারলে গায়ে হাত তুলবেন না। এই রিক্সাওয়ালার ঘাম ঝরানো টাকা দিয়েই সরকারি কর্মচারিদের বেতন ও রেশন প্রদান করা হয়, রাষ্ট্রের মালিক এই রিক্সা চালক তার ঘামে ভেজা কামাই ছাড়া বিন্দু মাত্র সুবিধা রাষ্ট্র থেকে পায় কী?

যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেবক না হয়ে শাসকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়ে যায়। তাদের প্রতি ধিক্কার জানাই।

কান ধরে উঠবস করাতে হলে তো তাদেরই করানো উচিত। যারা এদের কোয়ারেন্টাইন করাতে ব্যর্থ। ভাই রমজানে মসজিদে ইতিকাফে থাকলেও দুবেলা ভালো ভালো খাবারের প্রস্তুতি আগে থেকে করে যান। আর এদের একদিন একজনের না প্যাডেল ঘুরালে অন্তত তিনজনের অনাহার নিশ্চিত হয়ে যায়।

প্রতি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যে যা আসে ৮০-৯০ ভাগ যায় দালালদের পকেটে। জনগণের পাওনা নিশ্চিত করা প্রশাসনের কাজ নাকি প্রধানমন্ত্রীর কাজ? সবক্ষেত্রেই সব দায় প্রধানমন্ত্রীর উপর চাপিয়ে দেন তৈলবাজি করে। প্রধানমন্ত্রী যা দেওয়ার সবতো জনগণের আমানত তাদের মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যে আপনাদের কাছে দিয়ে দেন। আপনারা শুধু জনগণের ন্যায্য পাওনা ও অধিকারটুকু দিয়ে দেন। এরা আদর্শ নাগরিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

বিশেষ অনুরোধ করি ধনী ও বিত্তশালীদের কাছে এদের পাশে দাড়ান ; মানুষের জন্যে কিছু করেন। আপনার মালিক আপনার জন্য করবেন ইনশাআল্লাহ।

করোনা ভাবনা

একজন মানবসন্তান পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হবার জন্য একটা শুক্রাণু এবং একটা ডিম্বানু দরকার।

ডিম্বানু থাকে নারীর ডিম্বাশয়ে। শুক্রাণু থাকে পুরুষের শুক্রাশয়ে।

নারী পুরুষ পরস্পরকে প্রেমপত্র লিখলে বাচ্চা হয় না। ইশারা দিলে বাচ্চা হয় না। স্পর্শ করলে বাচ্চা হয় না। চুম্বন করলে বাচ্চা হয় না। আলিঙ্গন করলে বাচ্চা হয় না। যথাযথভাবে জন্মনিরোধক ব্যবহার করে যৌনমিলন করলেও বাচ্চা হয় না।

শুধুমাত্র কোনপ্রকার জন্মনিরোধক ব্যবহার না করে যৌনমিলনের ফলে পুরুষের বীর্যে অবস্থিত লক্ষকোটি শুক্রাণুর একটা নারীর ডিম্বাশয়স্থিত ডিম্বানুকে নিষিক্ত করার সুযোগ পায় এবং তার পরিণতিতে একটা মানবশিশুর ভ্রূণের উদ্ভব হয়।

এতগুলো প্রতিবন্ধক থাকা সত্ত্বেও এবং জন্মানোর পূর্বে মাতৃগর্ভে নয়মাস দশদিন কোয়ারেন্টাইন থাকার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও পৃথিবীতে জনসংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছেই!

শুক্রাণু যেমন অনুবীক্ষণীয় বস্তু করোনাভাইরাসও তেমন শুক্রাণুর চেয়েও অনেক অনেক ছোট অনুবীক্ষণীয় বস্তু!

শুক্রাণুবাহীপুরুষের দেহ থেকে শুধু একটা উপায়ে নারীদেহে শুক্রাণু যেতে পারে।

করোনাভাইরাসবাহী নারী বা পুরুষের দেহ থেকে অসংখ্য উপায়ে অন্য নারী বা পুরুষের দেহে করোনাভাইরাস যেতে পারে।

পুরুষের নি:শ্বাস থেকে শুক্রাণু বের হয়ে নারীদেহে প্রবেশ করে না, কিন্তু করোনা আক্রান্ত একজন মানুষের নি:শ্বাস থেকে করোনাভাইরাস নির্গত হয়ে অন্যমানুষের দেহে প্রবেশ করে।

পুরুষের হাতের তালু থেকে শুক্রাণু নারীর হাতের তালুতে ট্রান্সফার হয়ে নারী গর্ভবতী হয় না, কিন্তু করোনা ভাইরাস একহাতের তালু থেকে আরেক হাতের তালুতে ট্রান্সফার হয়ে আরেকজনকে করোনাবান বা করোনাবতী করে দিতে সক্ষম।

পুরুষ নারীর আশেপাশে দাঁড়িয়ে হাঁচি বা কাশি দিলে নারীর পেটে বাচ্চা আসে না, কিন্তু করোনাসংক্রমিত ব্যক্তি কোন জমায়েতে হাঁচি কাশি দেয়া দূরে থাক, নি:শ্বাস ফেললেই তার কাছাকাছি দাঁড়ানো দশজন মানুষের ফুসফুসে করোনা চলে যেতে পারে!

শুক্রাণু একপথে গেলে করোনা একশপথে যায়।

শুক্রানু শুধু পুরুষ থেকে নারীতে যায়। করোনা পুরুষ থেকে পুরুষে, পুরুষ থেকে নারীতে, নারী থেকে পুরুষে এবং নারী থেকে নারীতে যায়।

মানবশিশু আত্মপ্রকাশ করতে নয়মাস দশদিন লাগে।

করোনা রোগ আত্মপ্রকাশ করতে ছ’সাত দিন লাগে।

প্রথমে সারা পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির নমুনা দেখুন।তারপর যে দেশগুলো করোনার শুরুতেই মেলামেশা বন্ধ না করে পরে লকডাউন করেছে,তাদের বর্তমান অবস্থা দেখুন।

তারপর আমাদের দেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যত সম্ভাব্য অংকটা মিলিয়ে নিন!

তারপর সিদ্ধান্ত নিন কালকে থেকে সমস্তপ্রকার গনজমায়েতে যাওয়া, পুলিশ মিলিটারির চোখ ফাঁকি দিয়ে চা বিড়ি খেতে যাওয়া, কোয়ারেন্টিন দেখতে যাওয়া, অপ্রয়োজনে বাজারে যাওয়া, কারো করোনা রোগ হয়েছে কী না দেখতে যাওয়া, ইত্যাদি ইত্যাদি বন্ধ করবেন? নাকি করবেন না!

#AI_Shohag
করোনা ভাবনা|
২৬ মার্চ, ২০২০

সাহায্য নয় ওদের পাওনা পরিশোধ করুন

মোঃ শাহিনুর ইসলাম

আজকে সমাজের চিত্রটা পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। সমাজের চিত্র এমন হতে চলেছে যে কেউ অতিরিক্ত টাকার গরমে না খেয়ে মরবে আর কেউ টাকার অভাবে। আজ যারা দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় বানিয়েছেন তাদের টাকা মূল্যহীন। সমাজের উঁচু শ্রেণীর মানুষদের কে একটাই অনুরোধ করবো দুস্তদের সাহায্য বা ভিক্ষা দিতে আসবেন না; পারলে তাদের পাওনা পরিশোধ করুন। যেখানে পাওনা পরিশোধের ক্ষমতা নেই ; সেখানে সাহায্য করার ক্ষমতা পান কোথায়? তাহলে সবই পাবলিসলিটির জন্যে নয় কী? আপনারা তারা যারা এই দুস্ত শ্রেণী তৈরি করেছেন। যে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে পারিশ্রমিক পরিশোধের কথা; কোনোদিন কী সপ্তাহ বা মাসের শেষে ন্যায্য পাওনা দিয়েছেন? আমার জ্ঞাতার্থে বেশির ভাগ গ্রুপ অব কোম্পানির মালিকেরা তার শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের কাছে ঋণী। বেশিরভাগ শিল্পের মালিকেরা কর্মীদের পারিশ্রমিক পরিপূর্ণ পরিশোধ করে না। কোনো শ্রমিক অসুস্থ হলে শ্রম আইন মানা হয় না। এমনকি গর্ভবতী মায়েদের জন্য শ্রম আইনে যে ব্যবস্থা রাখা আছে সেটাও মালিকেরা তোয়াক্কা করে না। আমি কিছু কর্মকর্তাদের এটাও বলতে শুনেছি যে, ‘ আইন তো থাকেই, আইন মানে কে?’ আমার প্রশ্ন হলো, তাহলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে সে আইন পাস করার দরকার কী? আর স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে সে আইন ছাত্র-ছাত্রীদের মুখস্থ করানোর দরকার কী?দেশের জনগণের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই। আজকের দিনে কেউ যদি সহজ সরল ব্যবহার করে, এবং কোনো ধূর্ত জানোয়ার যদি তাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে তবে দোষটা ঐ ভালো মানুষটার। আর ধূর্ত জানোয়ার টা সমাজে বাহবা পায়। সমাজে বেশির ভাগ সহজ সরল মানুষগুলো সত্যিই দুস্ত শ্রেণী আর বেশির ভাগ ধূর্ত ঘাতকেরা উঁচু শ্রেনীতে অবস্থান করে। সমাজের মাথা হয়ে অর্থের কূটচালে সিস্টেমটাকে হাতের মুঠোয় পুরে রাখে। সারা বছর অন্যের সম্পদ লুটপাট করে দূর্যোগময় মুহূর্তে আসে দুস্তদের সাহায্য করতে। ভন্ড মুসলিমরা যাদের ধর্মীয় বিধান, ঘাম শুকানোর আগে পারিশ্রমিক পরিশোধ করা। তারা শ্রমিকের পারিশ্রমিক আত্মসাৎ করে, বছরে একবার কিছু নিম্ন মানের পোশাক নিয়ে হাজির হয় দুস্তদের সামনে।যেটা তাদের ধর্মীয় বিধান নয়, সেটাকেই ধর্মের নামে চালিয়ে দেওয়া হয়। সমাজে কিছু অশিক্ষিত আবাল দুস্ত শ্রেণী তৈরি করে রাখা হয়; নিজের আত্মসম্মান ও মর্যাদা ধরে রাখার জন্যে। তারপরও আজকের এই বিশ্ব সংকট মুহূর্তে অনেক মানুষ স্বেচ্ছায় মানব সেবায় এগিয়ে আসছেন। ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই কথাটা সত্যি কিছুদিন আগে বিশ্বাস করতে কষ্ট হতো। আজ বিশ্বাস হচ্ছে। আজ দেখতে পাচ্ছি পৃথিবীর মানুষ কতো অসহায়। এই ভয়ংকর মুহুর্তেও কিন্তু সেই ভন্ড ও রক্তচুষা জানুয়ারদের উৎপাত আছেই। যার অর্থ তাকেই দেবে; তারপর বলবে আমি দিলাম। অথবা অন্য দুস্তের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আরেক দুস্ত কে দান করবে। দোয়া করি সেইসব মানুষের জন্য যাঁরা আত্মমানবতার সেবায় নিয়োজিত। অনুরোধ ঐ মানুষ নামের ভন্ডদের প্রতি – ‘ ভিক্ষা বা সাহায্য নয় ; ওদের পাওনা পরিশোধ করুন ; ভালো মানুষের লেবাস খুলে সত্যিকারের মানুষ হয়ে যান।

বিশ্বটা যেভাবে পাল্টে যাবে

আলতাফ পারভেজ

জনশূন্য নগরী, এক নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিশ্বজার্মানির চ্যান্সেলর অাঙ্গেলা ম্যার্কেল ১৮ মার্চ দেশবাসীর উদ্দেশে এক ভাষণে করোনা সংক্রমণকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ–পরবর্তী সবচেয়ে বড় সংকট বলেছেন। হয়তো নিজের দেশকে মাথায় রেখেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন। কিন্তু এটা সত্যি, ২০১৯–এর ডিসেম্বরের পরের পৃথিবী আগের মতো আর থাকছে না। পরিবর্তনটা হবে অস্বাভাবিকভাবে ভিন্ন এবং মৌলিক। নতুন অনেক কিছুর জন্য প্রস্তুত হতে হবে মানব প্রজাতিকে। কিছু কিছু পরিবর্তন স্থায়ী হয়ে উঠবে।

১৯৪৫ সালের মে মাসের আগের ও পরের বিশ্ব আলাদা হয়ে গিয়েছিল। করোনাভাইরাস মহাযুদ্ধের চেয়েও বেশি মাত্রায় চেনাজানা বিশ্বকে পাল্টে দিতে পারে। এই অর্থে করোনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর সবচেয়ে বড় ‘রাজনৈতিক ঘটনা।

মুরব্বি দেশগুলো বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ

বিশ্বের বর্তমান জীবিত প্রজন্ম এ রকম সর্বগ্রাসী বৈশ্বিক দুর্যোগ আর দেখেনি। প্রতিদিনই কোভিড-১৯ ক্ষয়ক্ষতির চমক দেখাচ্ছে। এর শেষ কোথায়, আমরা কেউই জানি না। প্রাথমিকভাবে মনে হয়নি চীন এত দ্রুত ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এ–ও মনে হয়নি, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় বিপর্যয় এত ব্যাপক হবে। তুলনামূলকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা ছিল ওই সব অঞ্চল। অথচ সেখানেই অস্তিত্বের সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে। ইরানে সংক্রমণের ব্যাপকতারও কোনো উত্তর মেলেনি আজও। এটুকুই কেবল বোঝা গেল, যেসব দেশ ও সরকার আগে আগে সততার সঙ্গে সমস্যার রূঢ়তা চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ মাত্রায় সক্রিয় হয়েছে, তারা ভাইরাসের আগ্রাসন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অন্যত্র ঘটেছে উল্টো।

করোনার ক্ষয়ক্ষতি হলো চলতি দুর্যোগের মাত্র প্রথম পাঠ। ধাপে ধাপে এর পরের অধ্যায়গুলোও হাজির হতে থাকবে। ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী এই শিক্ষা হয়েছে, মানবজাতির একাংশকে বিশুদ্ধ পানি ও ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধাবঞ্চিত রেখে অন্যত্র সুস্বাস্থ্যের স্বর্গ বানানো যায় না। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিশ্বের মুরব্বি দেশগুলোর নেতারা করোনাকালে বিশ্বকে মোটেই নেতৃত্ব দিতে পারেননি। তাঁদের তরফ থেকে এমন একটি বাক্যও পাওয়া যায়নি, যা বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করতে পারে। এটা বৈশ্বিক রাজনৈতিক নেতৃত্বের পালাবদলের তাগিদ দিচ্ছে ভবিষ্যৎকে। অতীত মহামারির ইতিহাসেও এমন দৃষ্টান্ত আছে—অভিভাবকসুলভ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়ে বহু রাজত্ব নুয়ে পড়েছিল। তবে সব মহামারির শিক্ষা এক রকম নয়। এটাও অতীতেরই শিক্ষা।

আপাতত যা দেখা গেল, যুক্তরাষ্ট্র সময়মতো নিজের অনেক নাগরিকের ‘ভাইরাস টেস্ট’ করাতে পারেনি, পাশাপাশি নিজেও বৈশ্বিক ‘গভর্ন্যান্স-টেস্টে’ এত দিনকার অবস্থান হারিয়েছে।

দেশটির ডাকে ইউরোপ যুগের পর যুগ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে শরিক হয়েছে। অথচ ভাইরাস হানা দেওয়ামাত্র ওয়াশিংটন কোনো ধরনের মতবিনিময় ছাড়াই ঘনিষ্ঠ মিত্র ইউরোপের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বাকি বিশ্বের জন্যও কোনো দায় বোধ করতে দেখা যায়নি দেশটির প্রেসিডেন্টকে। এ পরিস্থিতি যেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালে ‘স্প্যানিশ-ফ্লু’র কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই দুর্যোগে অস্ট্রিয়া আর জার্মানি শক্তিমত্তা হারিয়ে উত্থান ঘটেছিল ব্রিটেন ও ফ্রান্সের।

তবে মহামারি কেবল রাজনীতিতে নয়, নাটকীয় পরিবর্তন আনে অর্থনীতিতেও। স্প্যানিশ-ফ্লুর পরই বিশ্বজুড়ে ফ্যাক্টরির ক্ষুধা মেটাতে নারীরা কাজে নেমেছিল। কোভিড-১৯ কী কী করবে, আমরা এখনো সামান্যই জানি তার।

অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের অবসান?

ডলার-পাউন্ড পকেটে নিয়ে পণ্য না পাওয়ার অভিজ্ঞতা উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের অনেক নাগরিকের জন্য জীবনে এই প্রথম। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সীমান্ত বন্ধ এবং জরুরি অবস্থার মতো ঘটনা। বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়েছে। অর্থনৈতিক গোলকায়নের জন্য এ রকম অবস্থা দীর্ঘ মেয়াদে বিপর্যয়কর। বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়েছে সমগ্র বিশ্ব।

সব দেশেই ব্যবসায়ীরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রণোদনার জন্য মরিয়া হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। কেউ চাইছেন নগদ সহায়তা, কেউ কর মওকুফ। পরিস্থিতি অভূতপূর্ব। ফলে তা অভূতপূর্ব সমাধান চিন্তাই দাবি করছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রীরা অধিকাংশ দেশেই হতবিহ্বল অবস্থায় আছেন।

রাষ্ট্রগুলো মদদ চাইছে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবির কাছে। এত দিনকার ‘সিস্টেম’-এর ত্রুটির দিকে কেউই অঙ্গুলি নির্দেশ করতে চাইছে না। কেন কথিত মধ্যম আয়ের একটা দেশ তার প্রধান সরকারি হাসপাতালেও পর্যাপ্ত মাস্ক দিতে পারেনি, সে নিয়ে ইতিমধ্যে গভীর প্রশ্ন উঠছে। এটা একটা কাঠামোগত সংকটই বটে।

বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য, প্রকৃতি ও পরিবেশকে অগ্রাহ্য করে কেবল পুঁজির স্বার্থ দেখার দীর্ঘ ঐতিহ্য এবার কেবল নৈতিকভাবেই নয়, কার্যকারিতার দিক থেকেও চ্যালেঞ্জে পড়েছে। মানুষের শরীর-স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিবেচনাকে বাদ দিয়ে যে কারখানা চালু রাখা যায় না, চীনে সপ্তাহের পর সপ্তাহ বন্ধঘোষিত শত শত কারখানা তার সাক্ষ্য হলো। কোভিড–১৯ থেকে বাঁচতে মাস্কপরা মানুষ উপলব্ধি করছে—তার এত দিনের উন্নয়নচিন্তায় বিশুদ্ধ পানি ও বিশুদ্ধ বাতাসের বিষয়টি বাদ পড়ে গিয়েছিল। যে কারণে, কোনো এক ভাইরাস
মানব প্রজাতিকে আক্রমণ করেছে বলার চেয়ে পুঁজিতন্ত্র মানবজীবনকে বিপদে ফেলেছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে।

আয়নায় সমাজের নগ্নতা দেখা গেল

করোনা–দুর্যোগের জনমিতি নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলাপ হচ্ছে। অনেক দেশে ষাটোর্ধ্বরা এই ভাইরাসে বেশি কাবু হয়েছেন। তবে এসব ছাড়িয়ে সামাজিক স্তরে যে বার্তা সবাই পেল, তা বিষণ্নতায় মোড়ানো। এত দিনকার বিশ্ব সমাজটি যে সংহতি, সহমর্মিতা, দূরদৃষ্টি ও সমবেদনায় মোড়ানো নয়; বরং লোভ, প্রতারণা ও ক্রুদ্ধ প্রতিযোগিতাময় ছিল, সেটাই টের পেল সবাই সুপারশপগুলোর খালি তাকের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে। সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ দেশেই এমনটি ঘটেছে। কোভিড–১৯ পুরো সমাজকে তাই আয়নার সামনে নগ্ন করে ফেলেছে।

মানসিক অসহায়ত্বই মানুষকে এমন আচরণ করিয়ে নেয়। অনেক বাড়িই করোনাকালে টিনের খাবার আর টিস্যু পেপারের ছোটখাটো গুদামঘরের রূপ নিয়েছে। শিগগিরই এই প্রবণতা কমবে না। কমার সুযোগ নেই। ‘সিস্টেম’ মানুষকে আশা জাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।

করোনা ধর্মচর্চার ক্ষেত্রেও কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে চলেছে। প্রায় সব ধর্মের প্রধান প্রধান সাম্প্রতিক জমায়েত ইতিমধ্যে স্থগিত বা বাতিল হয়ে গেছে। এসব আবার চালু হলেও বিপুল স্বাস্থ্যসতর্কতা ধর্মচর্চার অতীত রূপে নতুন অনেক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসবে। মুসলমানপ্রধান দেশে আসন্ন রমজানে করোনা থেকে সুরক্ষার ধরন কী করে সঠিকভাবে কার্যকর করা যাবে, সেটাও বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক দেশে শুক্রবারের জুমার জামাত ইতিমধ্যে স্থগিত হয়েছে।

একই অবস্থা শিক্ষায়। প্রায় ৭৫টি দেশে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেক দেশেই এ রকম বন্ধ বর্তমান মেয়াদ শেষে আরও বাড়াবে। করোনার পরও উচ্চশিক্ষা ক্রমে অনলাইনভিত্তিক হতে চলেছে।

এর চেয়েও রূঢ় পরিস্থিতির শিকার ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলো। আগামী জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় বিশ্বের সব বড় ক্রীড়ানুষ্ঠান ইতিমধ্যে বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। জুলাই-আগস্টে জাপানে অনুষ্ঠেয় অলিম্পিকের আসরও পিছিয়ে দেওয়া হবে বলে মনে হচ্ছে।

করোনা-জাতীয়তাবাদের কাল শুরু

যখনই বিদায় নিক, করোনা বিশ্বায়ন ধারণাকে নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে যাবে। করোনা দেখিয়েছে, এত দিনকার বিশ্বায়ন টেকসই নয়। এই বিশ্বায়নের কেন্দ্রে ছিল বাণিজ্যিক স্বার্থ, রাজনৈতিক যৌথতা নয়। করোনা বিশ্বায়নের অন্ধকার অংশে আলো ফেলে দিয়েছে।

করোনার সংক্রমণে রাষ্ট্রগুলো যেভাবে নিজ নিজ সীমান্ত নিয়ে সচেতন হয়ে গেল, তাতে স্পষ্ট, রাষ্ট্র উবে যাওয়ার প্রচারণা আর এগোবে না। খোদ ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’ও এককভাবে এবার কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি; বরং ইউনিয়নভুক্তরা একে অপরের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার চেষ্টায় ছিল কঠোরভাবে। ইতিমধ্যে এই প্রবণতাকে ‘করোনা-জাতীয়তাবাদ’ বলা শুরু হয়েছে। এর আরও গোছানো রূপ দেখতে শুরু করব আমরা শিগগিরই। করোনাকালে আশপাশের দেশ থেকে কোনো সাহায্য না পেয়ে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিস ইউরোপীয় ঐক্যের ধারণাকে একটা ‘রূপকথা’ বলে অভিহিত করে শোরগোল তুলেছেন। ইতালিও এবারের দুর্যোগে ইইউ সদস্যদেশগুলো থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা পায়নি। এর একটা প্রতিক্রিয়া অনিবার্য ও আসন্ন। মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্বের কাঠামোগত ওলট–পালট ঘটতে চলেছে। যার ফলে আঞ্চলিক মেরুকরণ বাড়বে। যেসব দেশে ফেডারেল ব্যবস্থা ছিল, সেখানেও ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন বাড়ার তাগিদ তৈরি হবে। আন্তর্দেশীয় খোলামেলা সীমান্তগুলো আর আগের মতো থাকবে না।

এসব প্রবণতা বিশ্বায়নের বিরুদ্ধেই যায়। এটা একটা শূন্যতা। ভূরাজনীতিতে এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ হবে, আমরা এখনই তার পুরোটা জানি না।

যুক্তরাষ্ট্র-চীন ঠান্ডাযুদ্ধে সরবরাহ চেইনের বিপদ

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সংস্থার আগে চীনের আলিবাবা আফ্রিকার ৫৪টি দেশে বিপুল পরিমাণ মাস্ক আর করোনা–পরীক্ষার সরঞ্জাম পাঠিয়ে আপাতত তার দেশকে বৈশ্বিক নেতৃত্বে এগিয়ে রাখল। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এত দিনকার বাণিজ্যযুদ্ধ করোনার পরে যে রাজনৈতিক যুদ্ধে রূপ নিতে চলেছে, তা ইতিমধ্যে স্পষ্ট। এই দুই দেশের ঠান্ডাযুদ্ধ করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার গতি কমিয়ে দেবে। এটা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটা নৈরাজ্যকর অবস্থাও তৈরি করতে পারে। অথচ এ মুহূর্তে আন্তর্জাতিক একটা স্বাস্থ্য অবকাঠামোর জরুরি চাহিদা দেখা দিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আপাতত আত্মসমর্পণ বোধ হয় ভবিতব্য। কারণ, দেশটির অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে চীনের হিস্যা ৯৫ শতাংশ।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের উদীয়মান দ্বন্দ্ব সাপ্লাই চেইনের শুরুর বিন্দুতে থাকা বড় বড় উৎপাদকের কিছু কিছু কারখানা এমন সব নিরাপদ স্থানে সরাতে বাধ্য করবে, যেখানে ওই দ্বন্দ্বের আঁচ লাগবে না।

পণ্যমূল্য ও বেকারত্ব—দুটোই বাড়তে পারে

করোনাকালীন অভিজ্ঞতা থেকে দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার পুরোনো ধারণায় ফিরে যেতে পারে। বিভিন্ন
দেশ আন্তর্দেশীয় পণ্য চলাচলে স্বাস্থ্য সুরক্ষাজনিত বাধা অনেক বাড়াবে। এমনকি দেশে দেশে যানবাহন থেকে হোটেল পর্যন্ত ব্যবসা করতে
হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এর ফলে পণ্যের দাম আগের চেয়ে বাড়বে। করোনা–পরবর্তী বেকারত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি যুক্ত হয়ে একটা কঠিন পরিস্থিতির আভাস দেয়।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুব খারাপ এক আগামীর প্রস্তুতি নিতে বলেছেন সবাইকে। সঙ্গে ৫০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে কাজে নামছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকও ১২ বিলিয়ন ডলার তহবিল গঠনের কথা বলছে। আইএমএফ জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন পুরোই অনিশ্চিত।

ভাইরাসের সংক্রমণ কবে কোথায় গিয়ে কমে আসবে, সেটা অনুমান করা দুঃসাধ্য হয়ে আছে। উপরন্তু এবারের সংকটে খোদ আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ডলারকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার অকার্যকারিতাও দেখা গেল। ফলে এসব সংস্থার দেওয়া কিছু ডলার দেশে দেশে ব্যবসায়ী সমাজকে রক্ষায় সাহায্য করলেও দীর্ঘ মেয়াদে জনস্বার্থে সামান্যই কার্যকর হবে। যদি না অর্থনীতিবাদী অন্ধ প্রকৃতিকেন্দ্রিক পরিকল্পনাগুলো বদলানো না হয়।

ভাইরাস–ঝড় থামার পরই পুঁজি তার পুনরুত্থানের জন্য অটোমেশনের ওপর জোর দেবে এবার। কারখানা ও সাপ্লাই চেইন দুটোর অটোমেশন করা গেলে হবু ভাইরাস যুদ্ধগুলোকে এড়ানো সহজ হতে পারে। অটোমেশন যুগের ব্যাপকতা বাংলাদেশের মতো শ্রমজীবীনির্ভর দেশগুলোর জন্য খারাপ খবর। বিশ্বজুড়ে এশিয়া-আফ্রিকার শ্রমিক গ্রহণে স্বাস্থ্য বিবেচনা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব পেতে থাকবে এখন। অপ্রশিক্ষিত শ্রমিক গ্রহণের হারও কমে আসবে।

দোকানদারদের কাছ থেকে ‘বাজার’ চলে যাবে

করোনা শ্রমঘন শিল্পকে আমূল পাল্টে দিতে পারে। এ অবস্থায় উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তিকে কাজের নতুন সংস্কৃতিতে প্রশিক্ষিত করতে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে আগামী বছরগুলোতে।

সম্ভাবনার জায়গাটাও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। উৎপাদন ও বিপণনের ব্যাপকভিত্তিক এক অনলাইন যুগে ঢুকছে পৃথিবী। দোকানদারদের কাছ থেকে ‘বাজার’ চলে যাবে ‘ই-কমার্স’-এর দুনিয়ায়। ‘মল’গুলোর জন্য এটা দুঃসংবাদের মতোই শোনাবে। ঘরে ‘কাজ’ এবং অনলাইনে ‘বিক্রি’ শিখতে চলেছে শিগগিরই বিপুল শ্রমশক্তি। ঘরে থেকে শ্রম বিক্রি যেহেতু যাতায়াতের সময় বাঁচাবে, সে কারণে মানুষ অধিক ঘণ্টা কাজ করবে এবং এতে অনেক কোম্পানিতেই লোকবল কম লাগবে। এমনকি চিরায়ত ধাঁচের বিশাল আকৃতির কাঠামোগত ‘অফিস’ ধারণাটিও হুমকির মুখে পড়তে চলেছে বলেই মনে হয়। কেবল ‘ডিমান্ড সাইড’ যে ‘সাপ্লাই সাইড’কে পাল্টাবে তা নয়, উল্টোও হবে।

কর্মকর্তা পর্যায়েও আগের মতো মুখোমুখি বৃহৎ পরিসরে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চল উঠে যাবে। অনেক বিমান ভ্রমণের জায়গা করে নেবে স্কাইপে, টিমস ও ভিডিও কনফারেন্সিং। ঠিক একই কারণে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি উপখাতকে বহুদিন সংগ্রাম করতে হবে। শিল্পপণ্যের বড় বড় প্রদর্শনী আগামী অনেক দিন অনলাইনেই হবে।

নজরদারি উপকরণের গবেষণা, প্রস্তুতি ও স্থাপনার কাজ অর্থনীতির এক প্রধান ‘শিল্প’-এ পরিণত হওয়া প্রায় নিশ্চিত হতে চলেছে। বলা বাহুল্য, চীনই এ ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকছে। তবে বায়োটেক গবেষণা এবং এ থেকে উৎপাদিত পণ্যের বিপণনে কিউবার মতো দেশগুলোও ‘চেঞ্জ মেকার’ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এ ক্ষেত্রে কিউবার ওপর অবরোধ প্রত্যাহার করে নিজের এত দিনকার অবস্থান সংশোধন করতে পারে। সাধারণভাবে বড় বড় ওষুধ কোম্পানির জন্য আগামী দিনগুলো আশাবাদী হওয়ার মতো। তবে অনলাইনে চিকিৎসকদের মতামত নেওয়ার প্রবণতা বাড়বে। বিজ্ঞানের জগতে বংশগতিবিদ্যা, জীববিদ্যা, সংক্রামক রোগ নিয়ে পড়ালেখার গুরুত্ব বেড়ে যাবে।

নার্সিং ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যসেবায় অধিক বিনিয়োগ বাড়ানোও এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। ভোটের হিস্যায় বিশ্বব্যাপী সিনিয়র সিটিজেনরাই বেশি, ফলে এ ক্ষেত্রে সম্পদ স্থানান্তর ঘটবে বলেই মনে হয়।

ভোগ ও জীবনযাপনের ধরন পাল্টাতে চলেছে

এত দিন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাকে যেভাবে দেখা হতো, এ ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আশা করা যায়। প্রতিটি সংকটই কিছু সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দেয়। খাবারে মানুষের শুচিবায়ু বাড়ার সম্ভাবনা আছে এবার। এর ফলে অর্গানিক ফুডের বাজার চাঙা হয়ে উঠবে। বিশেষ করে যেসব খাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সেগুলোর দিকে মানুষের আগ্রহ বাড়বে। মাস্ক পরার চেয়েও শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকা যে অধিক জরুরি ছিল, সেটা করোনা ভালোভাবেই জানিয়েছে। ফলে ভোগের ধরন পাল্টাবে। জীবনযাপনের ধরনও। ‘লাইফস্টাইল’ জগতে তাই পরিবর্তন হবে ভূমিকম্পতুল্য। চীনে বন্য প্রাণী খাওয়া বন্ধের মধ্য দিয়ে এর সূচনা হয়েছে বলা যায়।

নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় শক্তিশালী অনেক দেশকে এবার মাস্ক ও সাধারণ মেডিকেল যন্ত্রপাতির জন্য অন্য দেশের দিকে হাত বাড়াতে হয়েছে। এ শিক্ষা মনে রেখে গতানুগতিক ধাঁচের প্রতিরক্ষা বাজেটের কিছু অংশ স্বাস্থ্য শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের সামর্থ্য বাড়াতে ব্যয় করবে অনেক দেশ। দৃশ্যমান শত্রুর বদলে অদৃশ্য শত্রু প্রতিটি দেশকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। সুতরাং বিশ্বজুড়ে শত্রু-মিত্রের পুরোনো ধারণাও পাল্টাতে বাধ্য। নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধনের মতোই অনলাইনের স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক হয়ে উঠবে অনেক অঞ্চলে।

একটা মিসাইল সংগ্রহের চেয়ে একজন ডাক্তার তৈরি যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সে সত্য বয়ে বেড়াচ্ছে করোনা–সাহিত্য। এর মধ্য দিয়ে সামরিক গৌরব অর্জনের চেয়ে কিউবার মতো জনস্বাস্থ্যের গৌরব প্রলুব্ধ করতে পারে নীতিনির্ধারকদের কাউকে কাউকে। তবে করোনার আগে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয় যে প্রয়োজনীয় মনোযোগ পাচ্ছিল এবং তার মোকাবিলা যেভাবে মানবসমাজের অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছিল, সেই স্থানটি করে নিতে পারে এখন সরাসরি স্বাস্থ্য প্রশ্ন। এমনকি ব্যবসায়ীরাও সেই অর্থের বড় অংশ নিয়ে নিতে পারে। ইউরোপের দেশগুলো ইতিমধ্যে শিল্প ও ব্যবসা খাতকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিচ্ছে। এই অবস্থা অ-রাষ্ট্রীয় পথে দরিদ্র দেশগুলোকে দেওয়া ধনী দেশগুলোর সামাজিক সহায়তাও কমতে পারে কিছুকালের জন্য। আবার নতুন সাহায্য চলে যাবে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার প্রকল্পগুলোতে।

করোনা রাষ্ট্রীয় নজরদারি বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে

করোনাভাইরাস কেবল বিশ্বব্যবস্থার ধরনই নয়, হয়তো অনেক সামাজিক মূল্যবোধই আমূল পাল্টে দিতে পারে। নতুন ‘স্বাভাবিক’-এর পথে ২০১৯-এর ডিসেম্বরের আগের স্বাভাবিক অবস্থা হারিয়ে ফেলব আমরা। মহামারির অতীত ইতিহাস অন্তত আমাদের তেমন ধারণাই দেয়। তবে সামাজিক পরিবর্তনের ভবিষ্যৎটি অনুমান করা এখনো কঠিন। কারণ, ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের অতিপ্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বিশ্ব।

করোনামুক্ত থাকতে গোলার্ধজুড়ে মানুষ প্রতিদিনকার জীবনধারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাল্টে প্রমাণ দিল—উন্নত ও নিরাপদ জীবনদর্শনে তাদের প্রণোদিত করা মোটেই দুরূহ নয়। তবে বাস্তব প্রচেষ্টা সব সময় শুভবুদ্ধি দ্বারা চালিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ইতিমধ্যে করোনা রাষ্ট্রীয় নজরদারি বাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে। কেবল বর্তমান ধাঁচের বায়োমেট্রিক কলাকৌশলই নয়, মানুষের হাত ধোয়া পর্যন্ত নজরে রাখার দিকে যাবে ‘রাষ্ট্র’। কোনো কোনো দেশে কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক হতে পারে ভবিষ্যতে।

চলাচল ও সমাবেশে স্বাধীনতার ধারণা আগের মতো আর শর্তহীন থাকবে না। মানুষের নিরাপত্তা এবং ‘নিরাপদ সমাজ’ গড়ার কথা বলেই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তাদের শারীরিক সংঘ এড়িয়ে অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ চলবে। অনেক দিন ধরে প্রযুক্তির রাজনীতি এ রকম উদ্যোগ চালাচ্ছিল। এবার সেটা প্রাতিষ্ঠানিকতা পাবে খানিকটা।

এতে গোলার্ধের পূর্ব-পশ্চিম সর্বত্র ‘সমাজ’-এর ভূমিকা হ্রাসের ইঙ্গিত স্পষ্ট। ইতিমধ্যে শক্তিশালী হয়ে থাকা ‘রাষ্ট্র’ আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠবে তাতে। চীনের কর্তৃত্ববাদী শাসন মডেল করোনা প্রতিরোধে কার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় উদারনৈতিক গণতন্ত্রের ওপর অবশ্যই নতুন করে বিশেষ চাপ তৈরি হলো। উদারনৈতিক ব্যক্তিস্বাধীনতার জন্য সামনের সময়টা হবে কঠিন। তাকে রক্ষণশীল নতুন অনেক আইনের মুখে পড়তে হবে তাড়াতাড়ি। চীনা মডেলের ভক্তরা বলছেন, ভাইরাস–যুদ্ধটা জীববিদ্যার বিষয়—এর মোকাবিলায় রাজনীতিবিদ্যাকে দূরে রাখা উচিত। স্পষ্ট যে আমলাতন্ত্র আবারও অনেক দিন চালকের আসনে থাকবে।

এসব বিতর্কের মধ্যে ইতিবাচক একটা দিক দেখা যাচ্ছে, অনেক ভাষ্যকার করোনা–পরবর্তী বিশ্বে বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের দিকে মানুষের বাড়তি মনোযোগেরও ইঙ্গিত করছেন। এটা বিজ্ঞানসম্মত চিন্তাভাবনার নতুন এক যুগের দিকে নিয়ে যেতে পারে সভ্যতাকে। উপাত্ত-বিশ্লেষণই যখন মানুষকে প্রতিদিনকার করণীয় সম্পর্কে জানাবে।

গোলার্ধজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতনতার নতুন তরঙ্গ

কোভিড-১৯–এর আগে ইউরোপ-আমেরিকা তার স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে গর্ব করত। তাদের একাংশ এখন ভাইরাস ছড়ানোর জন্য চীনসহ ‘বাইরের মানুষ’দের দায়ী করছে। এ রকম মনোভাব ভবিষ্যতে সেখানে এশিয়া-আফ্রিকার মানুষদের ‘নোংরা অপর’ জ্ঞান করার প্রবণতা বাড়াতে পারে। আবার নতুন ভ্যাকসিন উদ্ভাবনও শুরু হবে জোর কদমে।

ভাইরাসের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বব্যাপী স্থল, নৌ ও আকাশযানের চলাচল ধারণাতীতভাবে কমায়—প্রকৃতিতে দূষণ কমেছে ব্যাপকভাবে। এটা অন্য রোগ অনেক কমিয়ে আনতে পারে ভবিষ্যতে।

পুরো গোলার্ধে স্বাস্থ্য সচেতনতার একটা নতুন তরঙ্গ তুলেছে করোনা। এটাই সর্বশেষ এই মহামারি থেকে তাৎক্ষণিক সামাজিক লাভ। আর এ–ও তো জানাই, বৃষ্টির পরই রংধনু ওঠে এবং রংধনুতে এক-দুটি নয়, থাকে অনেক রং। কিন্তু এই মৃত্যু–বৃষ্টি কবে থামবে, আমরা এখনো তা জানি না। আবার কবে মানুষ উদ্বেগহীনভাবে আনন্দে অপরকে জড়িয়ে ধরবে, কবে মুখোশ খুলে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেবে সবাই, সে–ও অনুমান করা দুঃসাধ্য। এটা হতে পারে কয়েক মাস; বছরও। তবে নিশ্চিত যে মানুষ আবারও উঠে দাঁড়াবে। নতুন অভিজ্ঞতায়, নতুনভাবে। প্রতিটি বড় বিপর্যয়ের পর এমন হয়েছে।

আলতাফ পারভেজ গবেষক

দোকান ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত

মিরপুরের ছাতিয়ান কালিতলা বাজারের আমির আলী সুপার মার্কেটের মালিক আব্দুল গাফফার, করোনা ভাইরাসের কারণে দোকান ভাড়া মওকুফের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। সব দোকান ও বাসার মালিকদের কে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহবান জানাচ্ছি।

করোনা নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য

করোনা সন্দেহে শুধুমাত্র এই হাসপাতাল গুলোতে যোগাযোগ করুনঃ

#চট্টগ্রামে

১. চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল,
আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম।
২. ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি, চট্টগ্রাম।
৩. রেলওয়ে হাসপাতাল, সিআরবি, চট্টগ্রাম।

#ঢাকায়

১।সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল(infectious disease hospital)
ঠিকানাঃ মহাখালী,ঢাকা

২।কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
ঠিকানাঃ এম ই এস বাসস্টেন্ড এর সামনে,হোটেল রেডিসনের বিপরীত পাশে,ঢাকা

৩।কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল
ঠিকানা ঃ ঈশাখা এভিনিউ, রাজউক কলেজের পাশে, উওরা,ঢাকা
মোবাঃ 01999-956290

৪।ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল
ঠিকানাঃ বাবু বাজার ব্রিজ,পুরান ঢাকা
ফোনঃ 02- 57390860

৫।রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল
ঠিকানাঃ মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বিপরীতে,ঢাকা

৬।মিরপুর ১ মাতৃসদন হাসপাতাল

এই ৬টি হাসপাতালেই কেবল আপনারা যোগাযোগ করুন কারন অন্য হাসপাতাল গুলোতে করোনা চিকিৎসার জন্য যথাযথ সামগ্রী নেই।তাই হয়রানীর শিকার না হয়ে উপরোক্ত হাসপাতালে যান।।

আর করোনার লক্ষন গুলো আপনাদের মাঝে থাকলে
আইইডিসিআর( IEDCR) খবর দিন।
যোগাযোগ ঃ 16263,
01550064901-05
01401184551,
01401184554-56,
01401184559-60
01401184563,
01401184568
01927711784-85
01937000011
01937110011

করোনা ভাইরাসের লক্ষনঃ
১।সর্দি
২।হাচি
৩।জ্বর(১০০ ডিগ্রি বা বেশি)
৪।শুকনা কাশি
৫।শ্বাসকষ্ট
৬।মাথাবেথা
৭।গলাবেথা
৮।পাতলা পায়খানা ( severity বেশি হলে)

তাই উপরোক্ত লক্ষন যদি থাকে আপনার
প্রথম কাজ ঘরেই থাকুন
জ্বর, ঠান্ডা, কাশি হলে ডাক্তারের কাছে আগেই আসার দরকার নেই।

Tab. Napa rapid 500mg/Napa Extend/ 665mg( ভরা পেটে)
১+১+১——————– ৭দিন

Tab. Deslor / Tab. Fexo (120/180)
১+0+১———–৭ দিন

Tab. Monas/Trilock/Lumona10mg
০+০+১———-৭দিন

Syp.Ambrox/ Dexpofen/Tuska plus
২ চামচ করে ৩ বেলা———– ৭দিন(কাশি বের হলে)

tab.Ometid 20mg
১+০+১————- ৭ দিন( খাবার আগে)

যদি শ্বাসকস্ট হয়,
Inhaler Bexitrol F
১ পাফ ১২ ঘন্টা পর পর।
হাপানি রোগীরা বাড়িতে আগে থেকে অবশ্যই
নেবুলাইজার মেশিন রাখবেন এবং windal plus দিয়ে নেবুলাইজ করবেন।।

#অন্যান্যঃ
*প্রচুর পরিমান পানি খাবেন।
*গরম পানি খাবেন, গরম পানির কুলকুচি করবেন।
*৭ দিন ঘরে অবস্থান করবেন।
*মাস্ক পরিধান করবেন।
*হাত হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে পরিস্কার করুন।
*হাচি কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার করুন

#দোয়াপড়ুন (মুসলিমদের জন্য)

১. আল্লাহুমা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারাসি,ওয়াল জুনুনি,ওয়াল জুঝামি, ওমিং শাইয়্যিল আসক্বম।।
২. সুরা ফাতিহা ৭ বার প্রতিদিন
৩. সুরা ইখলাস,সুরা ফালাক,সুরা নাস প্রতিটা ৩ বার করে পড়ুন

৭ দিন পর ও সুস্থ না হলে উপরোক্ত হাসপাতাল গুলোতে যোগাযোগ করুন এবং আইডিসিআর এ ফোন দিয়ে তাদের আপনার অবস্থা বিষয়ে অবহিত করুন।।

একমাত্র আল্লাহ তায়ালা পারেন আমাদের এই সংকট থেকে মুক্তি দিতে।
(Collected)